ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য জয় – ফিলিপ সল্টের সেঞ্চুরি

গতকালকে সবাই হয়তো বাংলাদেশ VS নিউজিল্যান্ডের খেলা দেখেছেন। দেখারই কথা। কারণ, নিজ দেশের খেলা।

কিন্তু, আপনারা অত্যন্ত থ্রিলিং একটা টি-২০ ম্যাচ মিস করে গেছেন। ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩য় টি-২০ ম্যাচ যারা দেখছেন, তারা অবশ্যই আমার কথার সাথে একমত হবেন। ২২৩ রানের টার্গেট ইংল্যান্ডের সামনে, লাস্ট ৪ ওভারে দরকার ৭১ রান এবং সেই রান চেইজ করতে লাস্ট ওভারে দরকার ২১ রান। শেষপর্যন্ত ম্যাচটা ইংল্যান্ড জিতছে।

যদিও অবিশ্বাস্য কিন্তু, বিশ্বাস করতেই হবে। কিছু করার নেই।

by Ben Stokes

টসে হারার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে ব্যাটিং-এ আসে, ৮ রানেই ওদের দুইটা উইকেট চলে গেছে। ব্রেন্ডন কিং এবং কাইল মেয়ার্স। সেই ইনিংস ২২২ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। অবশ্যই মানসিক শক্তির ব্যাপার। নিকোলাস পুরানকে ক্রেডিট দিতে হবে, ইনিংসটা এতদূর নিয়ে আসার জন্য। শাই হোপ এবং রফম্যান পাওয়েল এই দুইজনও নিকোলাস পুরানের সাথে ভালো পার্টনারশিপ করছে। পারফেক্ট নকে ওনারা বাউন্ডারিগুলো নিচ্ছিলো। আর যে সিক্সগুলো হচ্ছিলো, প্রত্যেকটাই বিশাল। কেবলমাত্র গ্যালারিতে পৌছালে ছয় রান, এই মাইন্ডসেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলে কিনা কে জানে!

১২ ওভারের শেষ বলে রফম্যান পাওয়েল যখন আউট হয়, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১২০ রান। তখনই বুঝা যাচ্ছিলো, আজকে বড় স্কোরের দিকেই যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেরফান রাদারফোর্ডের কথা না বলতেই হবে, ১৭ বলে ২৯ রান। অন্যদিকে পুরান তো ছিলোই, আদিল রশীদ, গাস এটকিনসন, টাইমল মিলসদের উনি ইচ্ছামতো পিটাচ্ছিলো।

আদিল রশীদকে দুই বলে দুইটা ছয় মারার পর, বাউন্ডারি লাইনে পুরান আউট হইছে। ততক্ষণে নিকোলার পুরানের ৪৫ বলে ৮২ রান করে ফেলছে। ৬টা চার, ৬টা ছয়। আর, শেষের দিকে জেসন হোল্ডারের ৫ বলে ১৮ রান। সবমিলিয়ে ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২২ রান।

This match was fully loaded with entertain.

by Eoin Morgan

২২৩ রানের টার্গেট চেইজ করতে যেমন ক্রিকেট খেলা দরকার, ঠিক তেমনই খেলছে ফিলিপ সল্ট এবং জস বাটলার। প্রত্যেকটা ওভারে ওনারা রান রেইট মেইনটেইন করে স্কোর তুলতেছিলো। এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে তৈরী করেছে ১১৫ রানের ওপেনিং জুটি। ১১ ওভারের ২য় বলে জস বাটলার আউট হয়, ৩৪ বলে ৫১ রান করে। লিয়াম লিভিংস্টোনও কিছুটা ক্রেডিট পাইতেই পারে ১৮ বলে ৩০ রানের জন্য, উনি যে ৩টা ছয় মারছে, প্রত্যেকটাই দারুন ছিলো। লাস্ট ৪ ওভারে যখন ৭০ রান দরকার, লিভিংস্টোনের এই জায়গাতেও কন্ট্রিবিউশন ছিলো। ১৭ ওভারের ৫ম বলে লিভিংস্টোন যখন আউট হয়, তখন দলীয় সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৮৬ রান।

এই সময়েও ক্রিজের একটা এন্ডে ঠিকই ছিলেন ওপেনার ফিলিপ সল্ট। ৫১ বলে সেঞ্চুরি করছেন এবং দলীয় ইনিংসটা এতদূর পর্যন্ত উনি ক্যারি করছেন। লিভিংস্টোনের আউটের পর ক্রিজে আসছে হ্যারি ব্রুক। কোনো কথা নাই, ১ম বলেই ছয়। লাস্ট ওভারে যখন ২১ রান দরকার, পুরো স্কোর হ্যারি ব্রুক একাই ক্যারি করছে। ১ম বলে ৪, ২য় বলে ৬, ৩য় বলে ৬, ৪র্থ বলে ২ এবং ৫ম বলে আবার ৬ রান।

২২৩ রানের টার্গেট ইংল্যান্ড চেইজ করছে ১৯ ওভার ৫ বলে। ফাইনালি, ৭ উইকেটে জিতছে ইংল্যান্ড।

You Might Also Like

Leave a Reply